স্বপ্নের সেই দ্বীপ
আমাদের স্বপ্নের সেই দ্বীপ,
সাগরের ঢেউয়ের আঘাতের মাঝে—
যে স্বপ্নকে রেখেছিলাম সযতনে সাজিয়ে,
মুক্তো আর ঝিনুকে ভরেছিলাম যার বুক,
জ্বলত যার গায়ে অগণিত দীপ,
বেজে চলত ভালোবাসার মধুর গান।
সে ছিল পাথুরে, সবুজে ভরা এক দ্বীপ,
শ্যাওলার মখমলি আবরণে ঢাকা,
কোথাও মৃদু বাতাস দেহ ছুঁয়ে যেত,
কোথাও দুই তরুণ হৃদয়ের স্পন্দন—
যেন তোমার অধর থেকে গান ঝরে,
আর তার সুর ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
ছোট্ট এক ফাটলের মাঝে
রঙিন একটি ফুল দুলত আপন মনে,
ঢেউ এসে ফোঁটা ফোঁটা জলে
তাকে সাজিয়ে দিত ভালোবাসার মতো।
প্রতিটি গাছ, প্রতিটি পাখি
আমাদের চিনত, আপন ভাবত,
লতারা তোমার হাত ছুঁয়ে
নীরবে জানাত ভালোবাসার কথা।
সেই উঁচু পাথুরে গুহায়
ছিল আমাদের কোমল হৃদয়ের বাস—
পৃথিবী থেকে দূরে,
চেনা-অচেনা সকলের বাইরে,
শুধু তুমি আর আমি,
দুটি হৃদয় একে অপরের আলিঙ্গনে আবদ্ধ।
তুমি আমার গান শুনতে,
তোমার সুরের ঢেউয়ে আমাকে ভাসিয়ে দিতে—
যেমন সমুদ্রের পাগল ঢেউ
পাথরের বুকে আছড়ে পড়ে
তাকে ভিজিয়ে দিয়ে যায় নিজের শীতলতায়।
চারদিকে তখন শুধু ভালোবাসা—
রামধনুর মতো রঙিন এক আবেশ।
পৃথিবী, আকাশ, সমুদ্র, ফুল, শ্যাওলা,
বালি আর রূপালি মেঘ—
সবাই যেন আমাদের ভালোবাসার গল্প বলত।
প্রতিটি বাতাস চিনত আমাদের,
প্রতিটি ঋতু ভাবত আপন।
তারারা মাথার ওপর
বিছিয়ে দিত ঝলমলে চাদর।
বসন্তের রঙে, রাতের নীরবতায়,
সূর্যের কিরণে, লাজুক সন্ধ্যায়—
সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল আমাদের প্রেম।
তোমার নাম নিতে নিতে
যখন তোমার রাঙা অধরের চুম্বন
ছুঁয়ে যেত আমার ওষ্ঠ,
আকাশও যেন রাঙা হয়ে উঠত।
প্রতিটি ফুলের পাপড়িতে
আমি লিখতাম তোমার নাম,
আর প্রতিটি গুহার দেয়ালে
তুমি লিখতে আমার নাম।
না কোনো ভেদ,
না কোনো গোপন কথা—
তুমি আমার মাঝে, আমি তোমার মাঝে,
দুটি হৃদয়, দুটি প্রাণ
এক ভালোবাসায় মিশে গিয়েছিল।
আমাদের স্বপ্নের সেই দ্বীপ—
সাগরের ঢেউয়ের আঘাতের মাঝেও
আজও বেজে চলে সেখানে
আমাদের ভালোবাসার মধুর গান।
©®মধুমিতা
Comments
Post a Comment