Posts

Showing posts from September, 2026

ভালোবাসার চিহ্ন

  এই মখমলি গোলাপের ফুল, কোমল, তার অন্তরে মুক্তো লুকিয়ে রাখে, সোনালি আভা মেখে আপন মনে দুলে ওঠে, সে কি জানে, তার এই মখমলটুকু এসেছে শুধু তোমার থেকেই? তার সমস্ত কোমলতা তোমার, গোলাপি এক আবরণের ভিতর তুমি আমার অন্তরে মিশে আছো, রেশমি, পাতলা এক চাদরে আমার হৃদয়টাকে জড়িয়ে রেখে, তোমার স্পন্দনে প্রতিদিন আমার হৃদয়কে ধ্বনিত করো তুমি। এই সবুজ-সবুজ পাতাগুলি, ঝলমলে, ঝিকিমিকি সূর্যের কিরণের তলায়, তারা কি জানে, তুমিও তাদেরই মতো, সবুজে ভরা, আলোয় ভরা, আমার হৃদয়ের ভিতর নেচে গান গেয়ে বেড়াও? সবুজ ধানের মতো দুলে ওঠো, আমার অন্তর্মনে সবুজের ছোঁয়া দাও, আমাকে খুঁজে বেড়াও, আমারই বুকের ভিতর, গভীর পর্যন্ত শিকড় ছড়িয়ে, কোণায় কোণায়, আমাকে স্পর্শ করে যাও তুমি। ভালোবাসাই ভালোবাসা ছড়িয়ে আছে চারদিকে, গাইতে থাকা নীরবতা বিছিয়ে আছে সর্বত্র, বসন্ত তার রং ছড়িয়ে দিয়েছে শুধু আর শুধু তোমার জন্য, প্রজাপতিরা রং নিয়ে উড়ে বেড়ায়, রাঙিয়ে দিতে তোমার সুন্দর স্বপ্ন, স্বপ্ন, যার কোনো শেষ নেই, ঠিক আমাদের ভালোবাসার মতো, অনন্ত, আর প্রতি মুহূর্তে জীবন্ত। এই নীল আকাশ আর রঙিন পৃথিবীর সর্বত্র লেখা আছে আমাদের নাম, আমাদ...

উপস্থিতি তোমার

তোমার কি মনে আছে সেই দিনগুলি, যখন শীতের মখমলি রোদে বসে আমরা স্বপ্নের জগতে ঘুরে বেড়াতাম! স্বপ্নের সুন্দর এক দ্বীপে যখন গিয়ে বসতি গড়তাম, সমুদ্রের এক উষ্ণ ঢেউ ছুঁয়ে আমাদের চলে যেত, ভিতর পর্যন্ত শিহরিত করে দিত। তারপর ডুবে যেতাম আমরা ভালোবাসার অতল সাগরে, একে অপরের হাত ধরে এগিয়ে যেতাম সামনে, যেখানে গাছ আর দেওয়ালে ওঠা লতাগুলি কানে কানে কথা বলত, আর মৃদু হাওয়ায় নিজেকে ঝরিয়ে কোনো পাতা ফেলে দিত ঠিক আমাদের সামনে, বাধার মতো, যেন আমরা নীরবে পার হয়ে যাই। গভীর সবুজ সেই পাতাটি, সোনার মতো বালিময় মাটির ওপর, পান্নার মতো ঝলমল করত, নাজুক সে পাতা, আমাদের পায়ের শব্দে ফড়ফড় করে উঠত, ঠিক তেমনই, যেমন তুমি আমার বুকে ধকধক করে, মৃদু ফড়ফড় করে উঠতে। হাওয়ার ঝাপটা ধীরে ধীরে পাতাটিকে উড়িয়ে নিয়ে যেত, যেন জীবন তোমাকে উড়িয়ে এনে আমার জীবনে দিয়েছিল, আমার অন্তরমনে তোমাকে বসিয়ে দিয়েছিল। আমরা একসঙ্গে চলতে থাকলাম, যতই সামনে এগিয়ে গেলাম, তুমিও ততই গজাতে লাগলে, বাড়তে লাগলে পিপুল গাছের মতো, আমার ভিতরে ঘর করে নিতে লাগলে। পিপুল গাছের বিস্তৃত ছায়ার মতো, তোমার পরিধিও বাড়তে থাকল, আমার দেহ ও মনের ওপর সম্পূর্ণ ...

স্বপ্নের সেই দ্বীপ

  আমাদের স্বপ্নের সেই দ্বীপ, সাগরের ঢেউয়ের আঘাতের মাঝে— যে স্বপ্নকে রেখেছিলাম সযতনে সাজিয়ে, মুক্তো আর ঝিনুকে ভরেছিলাম যার বুক, জ্বলত যার গায়ে অগণিত দীপ, বেজে চলত ভালোবাসার মধুর গান। সে ছিল পাথুরে, সবুজে ভরা এক দ্বীপ, শ্যাওলার মখমলি আবরণে ঢাকা, কোথাও মৃদু বাতাস দেহ ছুঁয়ে যেত, কোথাও দুই তরুণ হৃদয়ের স্পন্দন— যেন তোমার অধর থেকে গান ঝরে, আর তার সুর ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ছোট্ট এক ফাটলের মাঝে রঙিন একটি ফুল দুলত আপন মনে, ঢেউ এসে ফোঁটা ফোঁটা জলে তাকে সাজিয়ে দিত ভালোবাসার মতো। প্রতিটি গাছ, প্রতিটি পাখি আমাদের চিনত, আপন ভাবত, লতারা তোমার হাত ছুঁয়ে নীরবে জানাত ভালোবাসার কথা। সেই উঁচু পাথুরে গুহায় ছিল আমাদের কোমল হৃদয়ের বাস— পৃথিবী থেকে দূরে, চেনা-অচেনা সকলের বাইরে, শুধু তুমি আর আমি, দুটি হৃদয় একে অপরের আলিঙ্গনে আবদ্ধ। তুমি আমার গান শুনতে, তোমার সুরের ঢেউয়ে আমাকে ভাসিয়ে দিতে— যেমন সমুদ্রের পাগল ঢেউ পাথরের বুকে আছড়ে পড়ে তাকে ভিজিয়ে দিয়ে যায় নিজের শীতলতায়। চারদিকে তখন শুধু ভালোবাসা— রামধনুর মতো রঙিন এক আবেশ। পৃথিবী, আকাশ, সমুদ্র, ফুল, শ্যাওলা, বালি আর রূপালি মেঘ— সবাই যেন আমাদের...